|
 |
ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ১৯৯০ সালের অনুমোদিত জনবলকাঠামো দিয়ে চলছে। ২০ বছর পার হলেও জনবলকাঠামোর নিয়োগ, পদোন্নতির বিধান বা তফসিল পাস হয়নি। একদিকে জনবলস্বল্পতা, অন্যদিকে তফসিল না থাকায় নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
ডিসিসির হিসাবে, ১৯৯১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩১। আর বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ। অর্থাৎ বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার এক-দশমাংশ শহরটিতে বাস করছে।
ডিসিসির তথ্যমতে, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর জন্য (মাস্টাররোল ছাড়া) অনুমোদিত পদের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫২টি। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৬৯ জন কর্মরত আছেন, আর এক হাজার ৮৩টি পদই খালি রয়েছে।
নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিসিসির। ৮ জুলাই ডিসিসির মেয়র সাদেক হোসেন বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, গত ২০ বছরে শহরটির সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। আকার, আয়তন, লোকসংখ্যা, কর্মপরিধি বেড়েছে বহুগুণে। তাই সংস্থার প্রতিটি বিভাগের আমূল পরিবর্তন এনে লোকবল বাড়ানো জরুরি। বর্তমান অবস্থায় ডিসিসির কর্মকাণ্ড পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। একজন জানালেন, তিনি ২৩ বছর ধরে একই পদে কাজ করছেন। জনবলসংকট প্রসঙ্গে ডিসিসির একাধিক কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরে বসবাসরত জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি হাজারে দুজন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন। ঢাকা মহানগরে মাত্র আট হাজার ৫০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। অন্যান্য দেশের হিসাবে ঢাকা শহরে ৩০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা প্রয়োজন। অথচ ডিসিসিকে এক-চতুর্থাংশ সামর্থ্য নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।
ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০০৫ সালে নতুন আরেকটি জনবলকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রস্তাবিত জনবলকাঠামোটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রস্তাবটি আবার ডিসিসিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ১ আগস্ট ডিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন।
আবুল কালাম বলেন, যেহেতু নতুন জনবলকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, তাই এটি চূড়ান্ত হলে নতুন তফসিল পাস করানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে অসন্তোষ: জাতীয় পে-স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী, ডিসিসির প্রথম শ্রেণীর নবম ও সপ্তম গ্রেডের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
সম্প্রতি প্রথম শ্রেণীর নবম ও সপ্তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের টাইম স্কেল বাস্তবায়ন ফোরাম নামে একটি ফোরাম গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, পদোন্নতির বিধান আছে কিন্তু পদোন্নতি পাননি এমন পদের ক্ষেত্রে পদায়ন করা কর্মকর্তার নিজ বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছার এক বছর পর একটি টাইম স্কেল পাওয়ার কথা। কিন্তু পদোন্নতিবঞ্চিতদের বেলায় নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকায় তা কোনো কাজে লাগছে না।
এ ফোরামের সদস্যসচিব ডিসিসির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মো. আজমত আলী জানান, বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে এই দুই গ্রেডের কর্মকর্তারা টাইম স্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, পে-স্কেল নিয়ে জটিলতা থেকে থাকলে তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ আবেদন করেননি।
ঢাকা/নোয়াখালী ওয়েব/২৯ জুলাই/আইএইচএম/১২২৫ঘ.
|
|